স্ট্রোক কি? স্ট্রোক কত প্রকার, স্ট্রোক হওয়ার লক্ষণ ও স্ট্রোক প্রতিরোধের উপায়

স্ট্রোক! কি? এবং কেন ?

স্ট্রোক (Stroke) যার অর্থ হল আঘাত এবং এটি মেডিকেলের ভাষায় এক প্রকার জরুরি অবস্থা । স্ট্রোক ঘটে যখন আপনার মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় । কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হলে মস্তিষ্কের কোষ গুলো মরতে শুরু করে ।

স্ট্রোকের প্রকারভেদ

স্ট্রোক ২ ধরনের হয়ে থাকে , তাদের মধ্যে  Ischemic Stroke (ইস্কেমিক স্ট্রোক) হল অন্যতম । এর মাধমে মস্তিষ্কে রক্তবাহী পদার্থ প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে রক্ত জমাট বাধিয়ে দেয় । ২ ধরনের নাম Hemorrhagic Stroke (হেমোরারগিক স্ট্রোক)। এটি একটি রক্তবাহী পদার্থ যা ব্রেস এবং মস্তিষ্কের মধ্যে রক্তপাত ঘটায়। Mini Stroke (মিনি স্ট্রোক) বা Transient Ischemic Attacks (ক্ষণস্থায়ী ইস্কিমিক আক্রমণ)TIA  হয় যখন মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহে খুব সাময়িক বাধা প্রাপ্ত হয় ।

স্ট্রোকের লক্ষন

  • হঠাৎ অচলতা , বিশেষ করে শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া । মুখ বাকা হয়ে যাওয়া কিংবা হাত ও পা এ শক্তি না পাওয়া ।
  • হঠাৎ বিভ্রান্তি , যেমন কথা বলা কিংবা বুঝতে অসুবিধা হওয়া ।
  • দৃষ্টি সমস্যা, এই ক্ষেত্রে এক চোখে কিংবা উভয় চোখে সমস্যা হতে পারে ।
  • শরীরের ভারসাম্য কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা । হঠাৎ করে মাথা ঘোরা কিংবা হাঁটতে কষ্ট হওয়া।
  • আকস্মিক প্রচণ্ড মাথা ব্যাথা ।

উপরের কোন একটি লক্ষন যদি আপনার মধ্যে থাকে তবে অতি সত্তর চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

চিকিৎসার ধরন

Acute Stroke Therapies এর মাধ্যমে স্ট্রোক থামানোর চেস্টা করা হয় । এই সময় মস্তিষ্কের রক্ত দ্রবীভূত করা হয় এবং রক্ত ক্ষরন বন্ধ করা হয় ।

Post-Stroke Rehabitation এর মাধমে স্ট্রোকের পর শরিরে যে পরিমান ক্ষতি হয় (যেমনঃ দেহের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া কিংবা মুখ বাকা হয়ে যাওয়া প্রভৃতি) তা থেকে কিভাবে অতিক্রম কিংবা পুনরায় সুস্থ হয়ে আগের অবস্থায় ফিরে আসা যায় সেই সম্পর্কে রুগীকে সাম্যক ধারনা দেওয়া এবং তাকে সাহস দেওয়া।

Drug Therapy with Blood Thinners এই পদ্ধতির মাধমে প্রয়োজনীয় ঔষধ প্রয়োগ করে রক্তের মাত্রা লঘু করা । মুলত এটাই সারা বিশ্বে সর্বাধিক সাধারণ চিকিৎসা।

 

স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়/ স্ট্রোক প্রতিরোধের উপায়ঃ 

স্ট্রোক থেকে বাঁচার কিছু প্রাথমিক উপায় নিচে উল্লেখ্ করা হল । যদি এই উপায় গুলো সঠিক ভাবে মেনে চলা হয় তবে স্ট্রোকের ঝুকি প্রায় ৭০%-৮০% কমে যাবে ।

  • যদি Diabetes (ডায়াবেটিস), Blood Pressure (রক্ত চাপ), Cholesterol (কোলেস্টেরল) বেশি মাত্রায় থাকে তবে তা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে । এই সকল রোগের জন্য যে ঔষধ খাওয়া হয় তা ডাক্তারের পরামর্শ বাদে কখনই বন্ধ করা যাবে না । এবং নিয়মিত চেকা আপ এর মধ্যে থাকতে হবে।
  • শারীরিক ভাবে নিজেকে চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করতে হবে , নিয়মিত ব্যায়াম বা শরিরচর্চা করতে হবে ।
  • স্বাস্থ্যকর খাওয়া দাওয়ার মাধ্যমে শরীরের অজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে ।
  • ধূমপান বন্ধ করতে হবে ।
  • মদ্যপান বন্ধ করতে হবে ।
  • উপরে বর্নিত স্ট্রোকের লক্ষণ গুলোর সম্পর্কে ভালো ভাবে ধারনা নিতে হবে । এবং এর বিরুদ্ধে লড়াই করার একটা সাহস নিজেকেই যোগাতে হবে ।

 

সকলের মনে রাখা উচিৎ , স্ট্রোকের এর  ক্ষেত্রে সময় নষ্ট না করে যদি তাৎক্ষনিক হাস্পাতালে নেওয়া সম্ভব হয় তবে রোগির জীবন বাচানোর সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। এমনকি উপরে যেই লক্ষণ গুলোর কথা উল্লেখ করা আছে তা যদি খুব অল্প সময়ের জন্যও দেখা যায় সেক্ষেত্রে রোগিকে দ্রুত হাস্পাতালে নিয়ে যাওয়া উচিৎ। যত দ্রুত এর চিকিৎসা করাবেন ততোই রোগির জন্য ভালো তা না হলে মস্তিষ্কের চাপের কারনে অনেক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে । স্ট্রোকের দ্রুত চিকিৎসা হলে পুরোপুরি সুস্থ্য হয়ে উঠা সম্ভব।

গেস্ট পোস্টটি লিখেছেনঃ 

আতিক ইবনে শামস,ঢাকা

চাকরি বিষয়ক পোস্ট দেখতে চাইলে টুডেবিডিজবস সাইট থেকে ঘুরে আসতে পারেন।

আপনি নিচের বিষয়ে ইন্টারেস্ট হতে পারেন বলে এই ওয়েবপেজে চলে এসেছেনঃ

স্ট্রোকের পূর্ব লক্ষণ, স্ট্রোকের প্রাথমিক চিকিৎসা, স্ট্রোক কেন হয়, ব্রেন স্ট্রোক এর লক্ষণ কি, স্ট্রোক রোগীর চিকিৎসা, স্ট্রোক হলে করণীয়, স্ট্রোক প্রতিরোধের উপায়, স্ট্রোকের কারণ ও প্রতিরোধের উপায়, স্ট্রোক হওয়ার লক্ষণ, স্ট্রোকের পূর্ব লক্ষণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *